বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কখনো গর্বিত হওয়ার মতো সাফল্য আসে, আবার কখনো হতাশার ছায়া নেমে আসে। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তেমনই এক ঘটনা। দলটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলেও একটিও ম্যাচ জিততে পারেনি, তবুও মোটা অংকের প্রাইজ মানি নিশ্চিত হয়ে গেছে! বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করায় ৩,৫০,০০০ মার্কিন ডলার এবং শুধুমাত্র অংশগ্রহণের জন্য আরও ১,২৫,০০০ ডলার, মোট ৪,৭৫,০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি টাকা) পাবে।
কেমন হলো বাংলাদেশের পারফরম্যান্স?
টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া আটটি দলের মধ্যে বাংলাদেশ দল কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি, যা ভক্তদের জন্য এক ধরনের হতাশার কারণ। প্রত্যাশা ছিল অন্তত একটি-দুইটি ম্যাচ জিতে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। প্রতিপক্ষের চাপে নড়বড়ে ব্যাটিং লাইনআপ, মাঝেমধ্যেই বোলারদের ব্যর্থতা এবং দলীয় কৌশলের দুর্বলতা চোখে পড়েছে।
ম্যাচ না জিতেও কেন এত টাকা পুরস্কার?
আইসিসি টুর্নামেন্টে প্রাইজ মানির একটা নির্দিষ্ট কাঠামো থাকে। সাধারণত, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পায়। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও তেমনটাই হয়েছে।
- ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করায় বাংলাদেশ পাবে: ৩,৫০,০০০ ডলার
- শুধু অংশগ্রহণের জন্য পাবে: ১,২৫,০০০ ডলার
- মোট প্রাইজ মানি: ৪,৭৫,০০০ ডলার (প্রায় ৬ কোটি টাকা)
অর্থাৎ, পারফরম্যান্স যতই খারাপ হোক না কেন, শুধুমাত্র টুর্নামেন্টের ফরম্যাট ও র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতেই এই অর্থ পেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এটা কি দলের জন্য ইতিবাচক নাকি লজ্জাজনক?
বাংলাদেশ দলের জন্য এই পরিস্থিতি দুটো দিক থেকেই দেখা যেতে পারে। একদিকে, এটি আর্থিক দিক থেকে ভালো, কারণ প্রাপ্ত অর্থ ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে। অন্যদিকে, খেলার মাঠে ব্যর্থতা থাকা সত্ত্বেও এত টাকা পাওয়াটা অনেকের কাছে বিব্রতকর মনে হতে পারে। অনেক সমর্থক মজা করে বলছেন, "এটা কি ক্রিকেট নাকি লটারি?"
সমর্থকরা চায় দল মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করুক, ম্যাচ জিতুক এবং সম্মানের সঙ্গে অর্থ উপার্জন করুক। কিন্তু যখন কোনো ম্যাচ না জিতেও মোটা অংকের প্রাইজ মানি পায়, তখন এটি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভবিষ্যতে কী করা উচিত?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং দলের ম্যানেজমেন্টের জন্য এটি একটা বড় শিক্ষা হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভালো করতে হলে—
- শক্তিশালী ব্যাটিং ও বোলিং লাইনআপ গড়তে হবে।
- খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে হবে।
- ফিটনেস ও কৌশলের ওপর আরও মনোযোগ দিতে হবে।
- ম্যাচ জেতার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
ফুটবল বা অন্যান্য খেলায় দেখা যায়, দলগুলো যদি বাজে পারফরম্যান্স করে তবে সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ক্রিকেটেও এই বিষয়টি এখন জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।
শেষ কথা
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় মঞ্চে ম্যাচ না জিতেও বাংলাদেশ দল যে ৬ কোটি টাকা পেতে চলেছে, তা একদিকে সুবিধাজনক হলেও অন্যদিকে লজ্জাজনকও বটে। এই অর্থ যদি ভবিষ্যতে দলের উন্নয়নে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে এটি কাজে আসবে। তবে দল যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে সমর্থকদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে বেশিদিন লাগবে না!
0 মন্তব্যসমূহ